মোহাম্মদ হাসান | কক্সবাজার
পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ এবং সেবার মান নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। জেলার বিভিন্ন এলাকায় ঘণ্টা পরপর বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় স্বাভাবিক জনজীবন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। নিয়মিত বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করেও নিরবচ্ছিন্ন সেবা না পাওয়ায় গ্রাহকদের মধ্যে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দিনের পর দিন কোনো পূর্বঘোষণা ছাড়াই ৫- ১০ মিনিটের আসে আবার চলে যায়। গ্রাহকেরা ক্ষোভের সহিত বলেন কেন আমাদের কক্সবাজারের বিদ্যুৎ ঘন্টার পর ঘন্টা সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কখনো আধা ঘণ্টা, কখনো এক ঘণ্টা, আবার কখনো কয়েক ঘণ্টা ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ নিত্যদিনের ঘটনায় পরিণত হয়েছে।ই-বাংলা টেলিভিশনের প্রতিনিধি সরেজমিনে গিয়ে দেখেন প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ রোগীদের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে ও রাতের বেলায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মানুষের ঘুম, শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দোকানপাট, ক্ষুদ্র শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন ও সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কম্পিউটার, ফ্রিজ, মোটরসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ছেন।
গ্রাহকদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে পল্লী বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে অধিকাংশ সময় কোনো সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা বা আগাম বার্তা দেওয়া হয় না। ফলে জনভোগান্তির পাশাপাশি কর্তৃপক্ষের প্রতি আস্থার সংকটও বাড়ছে।
সচেতন মহলের মতে, একটি পর্যটননির্ভর জেলার অর্থনীতি, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও ব্যবসা-বাণিজ্য সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ অত্যন্ত জরুরি। অথচ দীর্ঘদিন ধরেই কক্সবাজারের মানুষ অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহের শিকার হয়ে আসছেন। এ অবস্থার দ্রুত ও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা সময়ের দাবি।
ভুক্তভোগী গ্রাহকরা সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন— কক্সবাজারে পল্লী বিদ্যুতের ঘন ঘন লোডশেডিং ও সেবার অনিয়মের কারণ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা হোক। একই সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন, মানসম্মত ও গ্রাহকবান্ধব বিদ্যুৎ সেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।
কক্সবাজারবাসীর প্রত্যাশা— বিদ্যুৎ সেবার নামে অব্যবস্থাপনা ও দুর্ভোগের অবসান ঘটিয়ে জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। কারণ বিদ্যুৎ আজ বিলাসিতা নয়, এটি নাগরিক জীবনের অন্যতম মৌলিক প্রয়োজনীয় সেবায় পরিণত হয়েছে।
ককসবাজার পল্লী বিদ্যুৎতের এক অফিসারের সাথে ফোনে যোগাযোগ করে জানা যায় যে,পল্লী অঞ্চলে লোডশেডিংয়ের মূল কারণ হলো বিদ্যুৎ উৎপাদনে ঘাটতি এবং শহর ও গ্রামের মধ্যে চাহিদার অসম বণ্টন। জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেয়ে চাহিদা বেশি হলে, বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সাধারণত গ্রামাঞ্চলে এই লোডশেডিং করা হয়।
মন্তব্য করুন