লিটন আফরোজ
বর্তমান সময়ে স্বাস্থ্য সচেতনতার পাশাপাশি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে সম্পর্ক ও মানসিক সুস্থতা নিয়েও। এরই মধ্যে নতুন কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে চমকপ্রদ তথ্য— চুমু খাওয়া শুধু ভালোবাসা প্রকাশের মাধ্যমই নয়, এটি শরীরের জন্যও উপকারী হতে পারে। এমনকি ওজন নিয়ন্ত্রণেও সামান্য ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
গবেষকদের মতে, গভীর চুমুর সময় মুখমণ্ডলের প্রায় ৩০ থেকে ৪৪টি পেশি একসঙ্গে সক্রিয় হয়। এতে প্রতি মিনিটে আনুমানিক ২ থেকে ৬ ক্যালারি পর্যন্ত শক্তি খরচ হতে পারে। যদিও এটি ব্যায়ামের বিকল্প নয়, তবে নিয়মিত চুমু খাওয়া শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি ক্ষয়ে সামান্য সহায়তা করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, চুমুর সময় শরীরে অক্সিটোসিন, ডোপামিন ও সেরোটোনিন নামের ‘সুখ হরমোন’ নিঃসৃত হয়। এসব হরমোন মানসিক চাপ কমাতে এবং ভালো লাগার অনুভূতি তৈরি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
একই সঙ্গে মুখের লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত লালা মুখগহ্বরের কোষ সুস্থ রাখতে সহায়তা করে বলেও ধারণা করা হয়।
এ ছাড়া চুমুর সময় চোয়ালের পেশি সক্রিয় ও শিথিল হওয়ার ফলে মুখের গঠন ঠিক রাখতে কিছুটা সহায়তা মেলে। ঠোঁটের কোষে রক্তসঞ্চালন ও অক্সিজেন প্রবাহও বাড়ে, যা ঠোঁটকে সতেজ রাখতে ভূমিকা রাখতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, চুমুর সময় হৃদস্পন্দন কিছুটা বেড়ে যায়, ফলে রক্তসঞ্চালন সক্রিয় হয় এবং হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম উদ্দীপিত হতে পারে। একই সঙ্গে মস্তিষ্কে এন্ডরফিন নামের প্রাকৃতিক ব্যথানাশক রাসায়নিক নিঃসৃত হয়, যা মন ভালো রাখতে সহায়তা করে।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, যেকোনো বিষয়েই ভারসাম্য গুরুত্বপূর্ণ। চুমুকে কেউ যেন অতিরিক্ত আসক্তি বা আবেগনির্ভর অভ্যাসে পরিণত না করেন, সে বিষয়েও সচেতন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
সম্পাদক: সরওয়ার কামাল খন্দকার
অফিস : ২৫৬/৫এ, রহমান ম্যানশন, দক্ষিণ পরিবাগ, মিরপুর, ঢাকা।