নিজস্ব প্রতিবেদক
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপদ, মানবিক ও শিক্ষার্থী-বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আজ উপাচার্য এবিএম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিভিন্ন নারী হলের শিক্ষার্থীদের মতামত ও দীর্ঘদিনের ভোগান্তির আলোকে ডাকসুর পক্ষ থেকে পূর্বে উত্থাপিত নিম্নোক্ত দাবি সমূহ নিয়ে ফলোআপ মিটিং অনুষ্ঠিত হয়।
ডাকসুর উত্থাপিত দাবিসমূহ হলো—
১. হল গেইট বন্ধের সময়সীমা ও লেট গেইটের সময়সীমা যৌক্তিকভাবে বাড়াতে হবে।
২. বৈধ বিশ্ববিদ্যালয় আইডি কার্ড প্রদর্শনের মাধ্যমে অনাবাসিক এবং অন্যান্য ছাত্রী হলের শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন অনুযায়ী হলে প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
৩. শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড এবং নারী অভিভাবকদের বৈধ পরিচয়পত্র প্রদর্শনের ভিত্তিতে নির্ধারিত সময়ের জন্য হলে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে।
৪. অসুস্থতা বা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে হলে প্রবেশ ও বের হওয়ার ক্ষেত্রে বিদ্যমান প্রশাসনিক ও আমলাতান্ত্রিক জটিলতা দূর করতে হবে।
৫. হল প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট স্টাফদের শিক্ষার্থীদের প্রতি আরও মানবিক, সহানুভূতিশীল ও শিক্ষার্থী-বান্ধব আচরণ নিশ্চিত করতে হবে।
৬. নারী হলসমূহে ডাকসুর প্রস্তাবিত ডিজিটাল সিকিউরিটি গেট স্থাপন করতে হবে।
বৈঠকে ডাকসুর পক্ষ থেকে জানানো হয়, নারী হলগুলোর অধিকাংশ সমস্যার একটি কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান হতে পারে ডিজিটাল সিকিউরিটি গেট ব্যবস্থা। এই ব্যবস্থায় শিক্ষার্থীরা ফিঙ্গারপ্রিন্ট, ফেস রিকগনিশন অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইডি কার্ড পাঞ্চের মাধ্যমে সহজেই হলে প্রবেশ করতে পারবেন। এর ফলে লেট গেইট ব্যবস্থাপনা, অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় প্রবেশ, এক হলের শিক্ষার্থীর অন্য হলে প্রবেশ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে প্রশাসনিক জটিলতা—এসব সমস্যার বাস্তবসম্মত সমাধান সম্ভব হবে। একই সঙ্গে হলের নিরাপত্তাও আরও শক্তিশালী হবে।
এ প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ডাকসু দায়িত্ব নেওয়া পর প্রথম মাস থেকেই বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে স্পন্সরও নিশ্চিত করেছিল এবং বাস্তবায়নের প্রাথমিক প্রস্তুতিও গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার কারণে উদ্যোগটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। এরপরও ডাকসু ধারাবাহিকভাবে বিষয়টি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে নিয়মিত ফলোআপ করে আসছে।
আজকের বৈঠকে উপাচার্যের কাছে বিষয়টি পুনরায় গুরুত্বসহকারে উপস্থাপন করা হলে তিনি দ্রুত একটি কমিটি গঠন করে ডিজিটাল সিকিউরিটি গেট স্থাপনসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো পর্যালোচনা ও দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর গুলোকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
সম্পাদক: সরওয়ার কামাল খন্দকার
অফিস : ২৫৬/৫এ, রহমান ম্যানশন, দক্ষিণ পরিবাগ, মিরপুর, ঢাকা।